অর্থনৈতিক ডেস্ক

গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিদিনই দেশের শেয়ারবাজারে মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে কমেছে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও)। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসেই শেয়ারবাজার নিম্নমুখী থাকায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ১৫৮ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৪৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৭ শতাংশ।

প্রধান সূচকের পাশাপাশি বড় পতন হয়েছে অপর দুই সূচকেরও। সূচকের এই পতনের মধ্যে বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৭৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এমন দরপতনের কারণে সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত প্রায় চার শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষেও দাঁড়য়েছে ১৩ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত কমেছে দশমিক ৫১ পয়েনট বা ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।

খাতভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বরাবরের মতো সব থেকে কম পিই রেশিও রয়েছে ব্যাংক খাতের। সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৯ দশমিক ২১ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে। অর্থাৎ ব্যাংক খাতের পিই আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক ১৭ পয়েন্ট কমেছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেলিযোগাযোগ খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ১২ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে এই খাতের পিই রেশিও ছিল ১৩ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে। অর্থাৎ গত সপ্তাহে টেলিযোগাযোগ খাতের পিই রেশিও আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পিই রেশিও ১৩ দশমিক ১৫ পয়েন্ট থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ পয়েন্টে। অর্থাৎ এ খাতের ইপি রেশিও দশমিক ১৫ পয়েন্ট কমেছে।

আর গত সপ্তাহে পিই রেশিও বেড়েছে একমাত্র বীমা খাতের। এ খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৩ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৩ দশমিক ১৮ পয়েন্টে। অর্থাৎ গত সপ্তাহে বীমা খাতের পিই রেশিও আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে দশমিক ২৯ শতাংশ।

এছাড়া খাদ্য খাতের ১৩ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে থেকে কমে ১৩ দশমিক ২৮ পয়েন্ট, সেবা ও আবাসন খাতের ১৬ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট থেকে কমে ১৬ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৬ পয়েন্ট থেকে কমে ১৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে এবং বস্ত্র খাতের ১৭ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট থেকে কমে ১৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। পিই ২০ পয়েন্টের নিচে থাকা বাকি খাতগুলোর মধ্যে সিরামিক খাতের ১৮ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট থেকে কমে ১৭ দশমিক ৫১ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৮ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট থেকে কমে ১৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ১৯ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট থেকে কমে ১৮ দশমিক ২৯ পয়েন্টে এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতের ১৯ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট থেকে কমে ১৮ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।