আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উস্কানিমূলক তৎপরতা বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও সমরসজ্জা বাড়িয়েই চলেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন আজ জানিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক স্পারকে সৌদি আরবে আরো বেশি মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। পেন্টাগন এবার দাবি করেছে, সৌদি আরবে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের ফলে তাদের শক্তি সেখানে আরো বাড়বে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “রাজা সালমানের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সমরশক্তি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছে।”

আমেরিকার অতিরিক্ত ৫০০ সেনা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের পূর্বাঞ্চলীয় সালমান বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে। গত মাসে আমেরিকা ১০০০ সেনা পাঠানোর কথা বলেছিল তবে তাদেরকে ঠিক কোথায় মোতায়েন করা হবে সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা গতকাল (শুক্রবার) বলেছেন, “মার্কিন সরকার সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়টি কংগ্রেসকে অবহিত করেনি।” সম্প্রতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাশের পরও সরকারের এ পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

আমেরিকা ইরানের তেল বিক্রি শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়ার পর গত কয়েক মাসে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় তারা আরো যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করেছে। সম্প্রতি পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় ইরান-মার্কিন উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। এসব হামলার জন্য আমেরিকা ইরানকে অভিযুক্ত করেছে। কিন্তু ইরান দৃঢ়তার সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দু’দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরো চরমে ওঠে ইরান আমেরিকার অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করার পর। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়েও চূড়ান্ত অভিযান শুরুর মাত্র কয়েক মিনিট আগে সে নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেন।

তেহরান মনে করে, তাদের প্রতিরক্ষা শক্তি ওয়াশিংটনের যেকোনো আগ্রাসন মোকাবেলা করতে সক্ষম। বর্তমানে আমেরিকা মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে বিরাজমান উত্তেজনাকে তীব্রতর করে তোলার চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ১৮ জুলাই দাবি করেন, তারা ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কিন্তু ইরান ভিডিও চিত্র প্রকাশ করে প্রমাণ করেছে ট্রাম্পের ওই দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ইরানের কোনো ড্রোনই ভূপাতিত হয়নি।