চট্টগ্রাম প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরী থেকে কয়েক লাখ অবিক্রিত চামড়া ভাগাড়ে পুঁতে ফেলছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সরকার নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকেও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে লাখ লাখ টাকার চামড়া রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পরে চামড়াগুলো তুলে নেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীর থেকে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ করে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তা ট্যানারিতে বিক্রির জন্য নগরীর পাঁচলাইশের আতুরার ডিপু এলাকায় নিয়ে যায়। কিন্তু সে চামড়া কম মূল্যেও ট্যানারি মালিকরা কিনে নেননি। ফলে নগরীর মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন আতুরার ডিপু এলাকা পর্যন্ত হাটহাজারী সড়কের দুই পাশে লাখ লাখ চামড়ার স্তুপ পড়ে থাকে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এবারের কোরবানির ঈদে ভয়াবহ দরপতন হয়েছে চামড়ার। সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দামে চামড়া না কেনায় এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। নির্ধারিত দামের অর্ধেকও না পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী লাখ লাখ টাকার চামড়া রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন, অনেকে আবার মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন চামড়া।

চট্টগ্রামের আতুরার ডিপু এলাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিরের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বুলডোজারের সাহায্যে ফেলে যাওয়া চামড়া ট্রাকে তুলে ভাগাড়ে পুঁতে ফেলতে দেখা যায়। চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দীকি বলেন, লাখ খানেক চামড়া বিভিন্ন সড়কে ফেলে যান ব্যবসায়ীরা। চসিকের ৩০টি গাড়ি এখন সেগুলো সরানোর কাজ করছে। আরেফিন নগর, হালিশহর, হামজারবাগে বেশিরভাগ চামড়া পড়ে রয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে সরানোর কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতা মো. ইদ্রিস আলী জানান, ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশুর চামড়া এনেছিল বিক্রি করতে, কিন্তু ন্যায্য মূল্য না পেয়ে সেগুলো ফেলে চলে যান। রাস্তার দুই পাশে লাখ লাখ চামড়া পড়ে থাকায় এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে এবং যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এ কারণে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা মঙ্গলবার রাত থেকে এসব চামড়া ট্রাকে তুলে নিয়ে ফেলে দিয়েছেন। পটিয়া থেকে ৩০০ চামড়া নিয়ে এসেছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গড়ে ২০০ টাকা দরে চামড়া কিনে ট্যানারিতে এনেছিলাম বিক্রি করতে। কিন্তু মালিকরা চামড়া কিনতে চাননি। তাই বিক্রি করতে পারিনি। ইতিমধ্যে চামড়ায় পচন ধরেছে। তাই ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছি।

এদিকে কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কাদের পর্যাপ্ত চামড়া কিনতে না পারার কথা স্বীকার করে বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা মতো চামড়া কেনা যায়নি। একদিকে এখন ট্যানারির সংখ্যা কম, অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা পুঁজিহারা। ঢাকার ট্যানারি মালিকরা গত বছরের সরবরাহ করা প্রায় ১৫০ কোটি টাকা এখনও দেয়নি। তাই এবার চামড়ার ব্যবসা মন্দা। দেশে চামড়ার বিশাল বাজার রয়েছে। এ শিল্পের বড় যোগান দেয় কোরবানির পশুর চামড়া। বিগত সময়ে চামড়ার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও গত কয়েক বছর থেকে তার দাম কমতে থাকে। আর এ বছর চামড়ার ক্রেতাই খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ভাগ্যের জোরে কেউ বিক্রি করতে পারলেও তা দিয়ে দিতে হয়েছে পানির দামে।